Brono Komanor Upay – মুখে গোটা দূর করার উপায়, কি খেলে ব্রণ দূর হয়? মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত?

Brono Komanor Upay - মুখে গোটা দূর করার উপায়, কি খেলে ব্রণ দূর হয়? মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত?
Brono Komanor Upay – মুখে গোটা দূর করার উপায়, কি খেলে ব্রণ দূর হয়? মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত?

Brono Komanor Upay – মুখে গোটা দূর করার উপায়

অনুষ্ঠান বাড়ি অথবা বিয়ে বাড়ি রয়েছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন সারা মুখ ব্রণয় ভরে গেছে। এবার ব্রণ ভরা মুখ নিয়ে আপনি কিভাবে অনুষ্ঠান বাড়িতে যাবে! এই ব্রণ কিভাবে কমাবেন তাই ভেবে সারাদিন মাথা নষ্ট, মুড অফ, কাজেও মন বসবে না। তবে এটা সবারই জানা যে ব্রণ হতে একদমই সময় লাগে না। কিন্তু এর হাত থেকে নিস্তার পেতে বহুদিন লেগে যেতে পারে। যদি সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রণের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু তার জন্য যে সমস্ত ওষুধ অথবা ক্রিম প্রয়োজন তা দাম অনেক, যদিও ওই সমস্ত ঔষধ বা ক্রিম ব্যবহার করলে শরীরের পার্শপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্রণ খুব সহজেই দূর হবে যদি সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি কি ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে শারীরিক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার ব্রণ দূর হয়ে যাবে।

কি খেলে ব্রণ দূর হয়?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে কিশোর এবং কিশোরী ব্রণের সমস্যায় ভোগে। ত্বকের ধরণ, বয়স এবং হরমোন-এর সাথে সাথে খাদ্য খাবারের ওপর নির্ভর করে ব্রণের সমস্যা বাড়ে এবং কমে। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক কি খেলে ব্রণ দূর হয়?

  • ভিটামিন সি – ব্রণের সমস্যা কমাতে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খুবই উপকারী। ভিটামিন-সি ত্বক পরিষ্কার করে এবং ত্বকের ভেতর থেকে দাগ কমাতে সাহায্য করে।
  • ফাইবার যুক্ত খাবার – ফাইবার যুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। বাদাম, গাজর, বিনস-এ প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে তার কারণে এই সমস্ত খাবার খেলে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
  • ফ্যাটি অ্যাসিড – ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। এই জাতীয় খাবার আইজিএফ ওয়ান নামে এক ধরনের প্রোটিন উৎপাদনের পরিমাণ হ্রাস ঘটায়। এই ধরনের প্রোটিন ব্রণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড রয়েছে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার – বাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের খুব ভালো উৎস। দ্রুত ব্রণ ব্রণ কমাতে এই ধরনের খাবার খাওয়া খুবই জরুরী। এই ধরনের খাবার কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
  • জিংক – জিংক যুক্ত খাবার হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে জিংক থাকে।
  • ভিটামিন এ – ভিটামিন এ ব্রণ কমাতে সাহায্য করে, মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে।
  • ভিটামিন কে – ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন কে খুবই জরুরী পাকা, পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। (Brono Komanor Upay)
আরও পড়ুন >>  দাঁত ব্যথা কমানোর উপায়

মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত?

  • পুদিনা পাতার রস ভালো করে বেটে 10 মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। ব্রণ দূর হবে সাথে সাথে ত্বকে জ্বালাপোড়া কমবে। এছাড়াও যে কোন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন-এ পুদিনা পাতা খুবই উপকারী।
  • লবঙ্গও ব্রণ সারাতে কার্যকারী।
  • এক টুকরো পাকা পেঁপে ভালো করে চটকে একটু চালের গুঁড়ো ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরী করেছে ভালো করে মুখে 10 মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এভাবে টানা কয়েক দিন ব্যবহার করলে ব্রণের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
  • যাদের ব্রণের পরিমাণ খুবই বেশি তারা পাতিলেবুর রস দিনে দুবার লাগান এবং 10 মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
  • ধনেপাতার রস ও ব্রণ সারাতে খুবই উপযোগী কয়েকটি ধনেপাতা এবং এক টুকরো কাঁচা হলুদ নিয়ে ভালো করে মিশ্রণ বানিয়ে আধঘন্টা মুখে লাগিয়ে রাখুন উপকার পাবেন।
  • দারুচিনির গুঁড়ো সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে মিশ্রণটি দশ-পনেরো মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন, সংক্রমনের সাথে সাথে চুলকানি এবং ব্যথা দূর হবে।
  • ১ লিটার জলতে ২০০ গ্রাম টাটকা নিমপাতা জ্বাল দিয়ে হাফ লিটার বানিয়ে। এই জল ছেঁকে ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে ব্রণ হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।

ব্রণের জন্য নিম পাতার ব্যবহার

নিম পাতার রস জীবানুনাশক এবং ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। নিম পাতায় রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রোনো দূর করতে সাহায্য করে। নিমপাতা ভালো করে বেটে সাথে চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরী করুন। এরপর এই মিশ্রণটিকে ভালো করে মুখে লাগিয়ে দশ কুড়ি মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। টানা কয়েক দিন ব্যবহার করলে ফল পাবেন হাতেনাতে। এছাড়া আপনি নিম পাতা এবং হলুদের মিশ্রণ মুখে লাগাতে পারেন। ব্রণের জন্য নিম পাতার ব্যবহার খুবই উপকারী।

৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায়

  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যাদের হয়নি তাদের ব্রণের পরিমাণ বেশি হয়। পুদিনা পাতা ত্বকের সংক্রমনের সাথে সাথে, ত্বকের তৈলাক্ত ভাব ও কাটাতে খুবই সাহায্য করে। তাই কয়েকটি পুদিনা পাতা বেটে 10 মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন, উপকার পাবেন।
  • মুলতানি মাটি মুখের তৈলাক্ত ভাব কমিয়ে ব্রণ সারাতে সাহায্য করে। মুলতানি মাটি গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগালে মুখের দাগ কমে যায়।
  • টি ট্রি অয়েল – যে কোনও ত্বকের সমস্যার থেকে রেহাই পেতে টি ট্রি অয়েল বেশ কার্যকরী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কোমলভাবে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে, সংক্রমণের হাত থেকেও রক্ষ্মা করে। ব্রণ থাকালে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্রণর উপরে লাগান।

এক রাতে / একদিনে ব্রণ দূর করার উপায়

অ্যাসপিরিন গুঁড়ো – ব্যথা কমাতে অ্যাসপিরিন খুবই ভালো, ঠিক ততটাই ভালো ব্রণ কমাতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাসপিরিনে রয়েছে স্যালিসাইলিক নামক অ্যাসিড, যা ব্রণর ব্যথা আর লালচেভাব দ্রুত কমাতে পারে। একটা অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট গুঁড়ো করে তাতে একটু জল মিশিয়ে পেস্ট বানান। এই পেস্ট ব্রণর উপরে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিলেই সকালে উধাও হবে ব্রণ। এক রাতে বা একদিনে ব্রণ দূর করার উপায়।

ব্রণের দাগ দূর করার উপায়

ব্রণের জন্য কোন ক্রিম ভালো

মুখের ব্রণ দূর করার জন্য মার্কেটে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ক্রিম রয়েছে।সেগুলি ব্যবহার করে আপনি মুখের ব্রণ দূর করতে পারেন তবে তাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা আপনার মুখের ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই ব্রন ও ব্রনের দাগ দূর করার জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে ক্রিম ব্যবহার করবেন।

ব্রণের দাগ দূর করার মেডিসিন

ত্বকের ব্রণের দাগ দূর করতে ভিটামিন সি খুবই কার্যকর। অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি ত্বকে পরিষ্কার করে, ত্বকের ক্ষতি ও দাগছোপ কমাতে সহায়তা করে। ত্বক ভালো রাখতে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।
ত্বকের দাগ খুব বেশি গভীর হলে এবং কোনো কিছু টোটকা ত্বকে ঠিক মত কাজ না করলে, ত্বক ও দাগের ধরন বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ত্বকের ব্রণের দাগ দূর করার মেডিসিন বা কসমেটিকস ব্যবহার করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্রণের জন্য কোন ফেসওয়াস ভালো

ব্রণের জন্য আপনি নিম ফেসওয়াশ কিংবা পাপাইয়া ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণের জন্য নিম এবং পাপায়া ফেসওয়াশ দুটো খুবই উপকারী।

ব্রণের গর্ত দূর করার ক্রিম

আপনি যদি ব্রণের গর্ত দূর করার ক্রিম -এর সাহায্যে ব্রণের দাগ দূর করতে চান, তবে অবশ্যই চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। না হলে আপনার মুখের ত্বক খারাপ হয়ে যেতে পারে। (Brono Komanor Upay)