মধু ও রসুন এর উপকারিতা, রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেলে কি হয়?

মধু ও রসুন এর উপকারিতা, রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেলে কি হয়
মধু ও রসুন এর উপকারিতা, রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেলে কি হয়

মধু ও রসুন এর উপকারিতা

মধু ও রসুন এর মধ্যে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের গুণ। রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যালিসিন উপাদান যা রক্তের মধ্যে কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জৈবযৌগ শরীরের অভ্যন্তরীণ অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করার কাজে সাহায্য করে। অপরদিকে মধু উপকারী উপাদান যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। তাই আমাদের শরীরের পক্ষে দুটি উপাদানের খুবই উপকারী। আপনারা যদি তরকারিতে কিংবা কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনি অন্যদের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকবেন। এটিতে ক্যান্সার রোধক এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে। রসুন শুধুমাত্র খাবারেই গন্ধ এবং স্বাদ বাড়ায় না, ওষুধের একাধিক গুণের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে আপনি রোগের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

মধু ও রসুনের মিশ্রণটি মানুষের ক্ষেত্রে উত্তম রোগ প্রতিকার, যা সর্দি-কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত মেদ হ্রাস করে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এই মিশ্রণটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রসুন আর মধু খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলেও আপনার রক্তে ব্যাড কোলেস্টেরল কমানো এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে আপনাকে নিরাপদ করে তুলবে। এছাড়াও ফ্লু, সর্দি-কাশি, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ডায়রিয়া রুখতেও রসুনের জুড়ি মেলা ভার। অপরদিকে বিশুদ্ধ মধুতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জিঙ্ক, এনজাইম, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সেলিনিয়াম ইত্যাদি রয়েছে। যা শরীরে মিনারেল-এর ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। রসুন এবং মধুর মিশ্রণ নিয়মিত খেতে পারলে আপনাকে স্বাস্থ্যগুণ, নীরোগ, দীর্ঘজীবন পেতে সাহায্য করে। প্রাচীন কাল থেকে চিকিত্‍সাশাস্ত্রে রসুনের ব্যবহার ও রসুনের উপকারিতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চলছে।

রসুনে একটি অর্গানসালফার যৌগ যার মধ্যে রয়েছে অ্যালিসিন, যা প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা যায় রসুন থেকে অর্গানসালফার যৌগিক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ ক্রিয়াকলাপ গুলিও থাকে। মধুতেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই মধু ও রসুনের একত্রিত মিশ্রণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং যার সেবনের ফলে আপনি সুস্বাস্থ্যবান হবেন। ঘরোয়া উপায় ভেষজ প্রতিকার হিসেবে রসুন ও মধুর গুন্ অপরিসীম।

রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেলে কি হয়?

রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেলে খেলে সর্দি কাশি নিরাময় হয়, পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত মেদ হ্রাস পায় অর্থাৎ যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের প্রবলেম, তাদের ব্যাড কোলেস্টেরল কমতে থাকে এবং শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হয়। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ডায়রিয়া এবং পেটের সমস্যা দূর করতে এক সপ্তাহ মধু ও রসুনের মিশ্রণটি খেতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুন্ শরীরের ইনফেকশন দূর করে। এছাড়াও দেহের বিভিন্ন স্থানে ফাংগাল ইনফেকশন দূর করে ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে এই মিশ্রণটি। অন্যদিকে, রসুন আর মধু খালি পেটে ১ সপ্তাহ খেলে ধমনীতে জমে থাকা চর্বি কাটাতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এই দুটি উপাদান সেবন করলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধাও প্রতিরোধ করে, রক্ত সাবলীল থাকার কারণে হার্টে ব্লক হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।। প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন রোগের সাথে লড়াই করার শক্তি জুগিয়ে থাকে। সর্দি কাশি গলাব্যথা সারতে সাহায্য করে এই মিশ্রণটি।

মধু ও রসুন খাওয়ার নিয়ম

এক চামচ মধুর সঙ্গে দু-তিন কোয়া রসুন থেঁতো করে মিশ্রন বানিয়ে প্রত্যেকদিন সকালে খেলে শরীর ফিট এবং এনার্জিতে ভরপুর থাকে।

রসুনের ফ্লু টনিক: অর্ধেক পেঁয়াজ কুচি, ৫-৬ কোয়া রসুন থেঁতো করে, ২টি শুকনো লঙ্কা কুচি, ১ চামচ আদা কুঁচি, একটি গোটা পাতিলেবুর রস এবং অ্যাপল সিডার ভিনিগার নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করে একটি পাত্রে ঢেকে রাখুন। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, ফ্লু সারাতে নিয়মিত ব্যবহার করুন।

দশ-বারোটি খোসা ছাড়ানো রসুনের কোয়া এবং ২৫০ গ্রাম মধু নিন। খোসা ছড়ানো রসুন কাচের পাত্রে রেখে এমন ভাবে মধু ঢালুন যাতে রসুনের কোষগুলো মধুর মধ্যে ডুবে যায়। খোসা ছড়ানো রসুন কাচের পাত্রে রেখে এমন ভাবে মধু ঢালুন যাতে রসুনের কোষগুলো মধুর মধ্যে ডুবে যায়। তারপর কাচের জারের মুখ ভালো করে সুতির কাপড় দিয়ে ঢেকে তিন-চারদিন রেখে দিন। এরপর কাজের জারের কাপড় খুলে চামচ দিয়ে রসুনগুলো নেড়েচেড়ে দিন। এভাবে আর এক সপ্তাহ রেখে দিন। এভাবে এক সপ্তাহ বাদেই বাজারের মুখ খুলে রসুন করে নেড়ে দিন। মোট ৪ সপ্তাহ সময় হলেই রসুন-মধু ফারমান্টেড হয়ে খাবারের উপযুক্ত হবে। এবার এই মিশ্রণটি সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দেবেন, একদমই কম তাপমাত্রায় রাখবেন না আবার ফ্রিজেও রাখা যাবে না।
গাঁজানো রসুন ও মধু মিশ্রণটি দিনের যেকোনো সময় খেতে পারবেন। দিনে এক কোয়া রসুনসহ এক চামচ মধু সেবন করবেন। এই মিশ্রণটি নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকর। শরীরে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।

রসুন আর মধু খেলে কি হয়

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে রসুন আর মধু

রসুনের বিভিন্নরূপে দীর্ঘকাল ধরে উপকারী ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। গবেষণায় প্রমাণিত, রসুন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে, রক্ত সাবলীল থাকার কারণে হার্টে ব্লক হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। মধুও ফিনলিক যৌগে সমৃদ্ধ, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, হৃদরোগের সমস্যায় গাঁজানো রসুন-মধু উপকারী ভেষজ।

সর্দি ও ফ্লু থেকে মুক্তি পেতে মধুর-রসুন

মধুতে শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল উপাদান রয়েছে। রসুনের প্রধান উপাদান অ্যালিসিন শরীরের রক্ত কোষে রোগ প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে। বিশেষত, গাঁজানো রসুন, বিশেষত সর্দি ও ফ্লুর তীব্রতা হ্রাস করতে সহায়তা করে।

রসুন আর মধু খালি পেটে এক সপ্তাহ খেলেই ম্যাজিক দেখতে পাবেন!
• শরীরের ওজন হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারে।
• মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা ও উন্নতি করতে পারে।
• ইরেকটাইল ডিসফাংশনের প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে।
• শরীরে কফ জমতে পারে না, যা বয়স্ক ও শিশুদের খুবই প্রয়োজন।
• স্মরণশক্তি হ্রাসের প্রবণতা কমায়।
• রক্তে সুগারের প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে।
• শরীরের এনার্জি লেবেল বজায় রাখে।
• মুড ভালো রাখেতে সাহায্য করে।