ঠোঁট গোলাপি করার উপায়, ঠোঁট কালো দূর করার উপায়, ক্রিম, ঔষধ

ঠোঁট গোলাপি করার উপায়, ঠোঁট কালো দূর করার উপায়, ক্রিম, ঔষধ
ঠোঁট গোলাপি করার উপায়, ঠোঁট কালো দূর করার উপায়, ক্রিম, ঔষধ

ঠোঁট গোলাপি করার উপায়

মানুষের ঠোঁট মুখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার অন্যতম অঙ্গ অঙ্গ। কে না চায় নরম তুলতুলে গোলাপি পাপড়ির মত ঠোঁট। কিন্তু সবার ঠোঁট গোলাপি নয়। এর পিছনে বহু কারণ থাকতে পারে। কিন্তু ফর্সাদের ঠোঁটের কালচে ভাব হলে খুবই সমস্যা, তা যত্নের কারণে হোক বা বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করার ফলেই হোক। যদিও স্বাভাবিকভাবে গোলাপি ঠোঁট কয়জনই বা হয়ে থাকে। ঠোঁটের রঙ যাদের কালচে হয়, আর তারা যদি গোলাপি লিপস্টিক ব্যবহার করে এটা খুবই বেমানান দেখায়। তাই আপনি যদি আপনার ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতে চান, তাহলে আমরা আপনাদের কিছু ঘরোয়া উপায় বলছি, যা সহজেই আপনার ঠোঁটের রঙ হালকা করবে। আর আপনার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন ঘরে বসেই! এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া প্রতিকারগুলি সম্পর্কে…

লেবুর রস ত্বকের জন্য দারুন উপকারী, এটি ত্বকের কালো দাগ দূর করে। তাই ঠোটের কালো দাগ দূর করতে এবং ঠোঁট গোলাপি করতে লেবু ব্যবহার করতে পারেন। তাই প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে লেবুর রস ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে হবে এবং পরের দিন জল দিয়ে ধুয়ে ফেলবে ফেলতে হবে। লেবুর রস ত্বকে প্রাকৃতিক এক্সফলিয়েটর হিসেবে কাজ করে।

মধুর সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণটি আপনার ঠোঁটে লাগাতে পারেন। লেবুর রস আপনার ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করে ঠোঁট গোলাপি করতে এবং মধু ঠোঁটের ময়েশ্চারাইজ করে। মিশ্রণটি এক ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

গোলাপ জলের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। গোলাপ জল হাইপার পিগমেন্টেশন কমাতে খুবই কার্যকরী। তুলার সাহায্যে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই মিশ্রণটি ব্যবহার করলে ঠোটেঁর কালো দাগ দূর হবে এবং ঠোট গোলাপি হতে সাহায্য করবে।

নিয়মিত ঘুমোতে যাওয়ার আগে জলপাই তেল লাগিয়ে রাখুন এবং পরের দিন সকালে ধুয়ে ফেলবেন। এটি ঠোঁটের রঙ হালকা করার পাশাপাশি ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে

প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি করার উপায়

ঠোঁটের রঙ হালকা গোলাপি করতে বিটের রস ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এক টুকরো বিট নিয়ে থেঁতো করে পেস্ট বানিয়ে দশ পনের মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন, তারপর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর হয়ে যায় এবং প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি হয়ে উঠবে।

বেদানার বহু পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং এটি অনেকের কাছে জনপ্রিয় ফল। ঠোঁটের কালচে ভাব কমাতে বেদানা খুবই কার্যকরী। বেদনা ঠোঁটের আদ্রতা বজায় রাখে এবং ঠোঁটকে গোলাপি করতে সাহায্য করে। বেদানার রস-এর সঙ্গে দুধের সর এবং গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ঠোঁটে ১০/১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক সপ্তাহ লাগালেই ফল পাবে নাতে নাতে।

ছেলেদের ঠোঁট গোলাপি করার উপায়

ছেলেদের ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে লেবুর রস ও মধু দিয়ে পেস্ট বানিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন, আবার বিটের রস নিয়মিত ঠোঁটে লাগিয়ে রাখলে ঠোঁট গোলাপি হয়। এছাড়াও আপনি বেদানার রস প্রত্যেকদিন ঠোঁটে লাগাতে পারেন। এটি ঠোটের কালো দাগ দূর করে ঠোঁট গোলাপি করতে সাহায্য করে। আবার হলুদ এবং মধু দিয়ে পেস্ট বানিয়ে ঠোঁটে 10 মিনিট লাগিয়ে রাখার পর ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন এটি ব্যবহার করলে ঠোঁট গোলাপি হতে সাহায্য করে।

পুদিনা পাতার সেইসাথে লেবুর রস, ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য আছে। পুদিনা পাতা ধূমপায়ীদের জন্যও সহায়ক কারণ এটি কালো নিকোটিন দাগ এবং দাগ দূর করতে সাহায্য করে। পুদিনা নির্যাস পরিবেশ দূষণ এবং চরম আবহাওয়ার কারণে ক্ষতির সংশোধন করে। 5-6টি পুদিনা পাতা গুঁড়ো করে অর্ধেকটা লেবু ছেঁকে নিন। মিশ্রণটি সহজে ছেলেদের ঠোঁটে লাগাতে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করুন।

এক চামচ চিনির জল নিয়ে তার সঙ্গে এক টুকরো লেবুর রস মিশিয়ে ঠোঁটে লাগাতে পারেন। এটি নিয়মিত ইউজ করলে ঠোটেঁর কালো দাগ দূর করার সাথে সাথে আপনার ঠোঁটকে নমনীয় এবং গোলাপী করে তুলবে।

ঠোঁট কালো দূর করার উপায়

মেকআপ দিয়ে মেয়েরা কিছু সময়ের জন্য কালো ঠোঁট লুকিয়ে রাখা যায়। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। একই সময়ে, ছেলেদের পক্ষে এটি লুকানো কঠিন হয়ে পড়ে। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করবেন –

হলুদ এবং মধু সমপরিমানে নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পেস্ট একঘন্টা ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রত্যেকদিন এই পেস্ট ঠোঁটে ব্যবহার করলে কালচে ভাব দূর হয়ে যায়।

ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। অ্যালোভেরাতে অনেক ওষধি গুণ রয়েছে। এছাড়াও ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে এলোভেরা করবে সাহায্য করে। তাই ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা জেল লাগান, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ‘মেলানিন’ কমায়।

ঠোঁটে নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করে ও ঠোঁট নমনীয় করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে নারকেল তেল মেখে রাখুন। জল দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলবেন।

শসা ত্বকের কালচে দাগ দূর করতে পারে। আবার শসার রসের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিয়মিত ঠোঁটে ব্যবহার করলে, ঠোটেঁর কালো দাগ দূর হয় এবং ঠোট গোলাপি হতে সাহায্য করে। শসার রস শীতলকারক ও ত্বকের শুষ্কতা দূর করে আর্দ্রতা বজায় রাখে।

ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার ক্রিম নাম

মেয়েদের ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার জন্য বাজারে একাধিক ক্রিম রয়েছে, যদিও তার সাইডএফেক্ট অনেক। ঠোটের কালোদাগ দূর করার জন্য প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে ক্লিনজিং মিল্ক লাগিয়ে কিছু সময় পর ভেজা তুলো দিয়ে মুছে ফেলুন, তারপর হালকা নারিশিং ক্রীম লাগিয়ে ঘুমাতে যান। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

মেয়েদের ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার ক্রিম

অল্প পরিমাণ চিনি কোল্ড ক্রিম একসাথে মিক্স করে ঠোঁটের স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে ঠোঁটের কালো দাগ দূর হবে ও ঠোট দ্রুত গোলাপি হবে।

স্ট্রবেরি লিপবাম – স্ট্রবেরিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ঠোঁটকে উজ্জ্বল করে। স্ট্রবেরি লিপবাম ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট গোলাপি করে।

প্রাকৃতিকভাবে গোলাপী ঠোঁট পেতে, আপনি কামা আয়ুর্বেদের 100% প্রাকৃতিক মিন্ট লিপ বামও ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি মেরামত এবং সতেজ ঠোঁট চিকিত্সা যা শুকনো এবং ডিহাইড্রেটেড ঠোঁটকে নমনীয় করে তোলে করে।

ঠোঁট গোলাপি করার ক্রিম

Scru cream ঠোঁট -এর উপর হাল্কাভাবে ম্যাসাজ করতে হয়। খুব সফট এটি। ইউজের সাথে সাথেই চেইন্জিং দেখা যায়। ময়লা উঠে আসে। এতে কালচে ভাব বের হয়ে ঠোঁট গোলাপি হয়। মরা কালো চামড়া বের করে আনে। SCRU Cream ব্যবহারে লিপ pink হবে।

প্রাকৃতিক বেরিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে যা ঠোঁটকে কালো হতে বাধা দেয়। এই কারণেই বাজারে প্রচুর লিপবাম স্ট্রবেরি স্বাদযুক্ত। স্ট্রবেরির সেরা উপকারিতা পেতে, আপনি এটি সরাসরি আপনার ঠোঁটে লাগাতে পারেন। স্ট্রবেরি লিপবাম ঠোঁটে লাগাতে পারেন।

ঠোঁট সুন্দর করার উপায়

পুদিনা পাতা শুষ্ক এবং নিস্তেজ ঠোঁটে প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য একেবারে উপযুক্ত। তারা ঠোঁটকে হাইড্রেট করে প্রাকৃতিক গোলাপী আভা ফিরিয়ে আনতে যা আমাদের সবারই কাম্য। 5-6টি পুদিনা পাতা গুঁড়ো করে অর্ধেকটা লেবু ছেঁকে নিন। মিশ্রণটি সহজে ঠোঁটে লাগাতে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করুন।

ঠোঁট গোলাপি করার ঔষধ

একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিন এবং এটি খুলে ফেলুন। এটি সরাসরি আপনার ঠোঁটে লাগান। এটি ঠোঁটকে নরম করে গোলাপী করে। এটি ত্বকের কোষের প্রজনন, সঞ্চালন এবং রেখা ও বলিরেখা প্রতিরোধে সাহায্য করে দেখানো হয়েছে।

ছেলেদের কালো ঠোঁট গোলাপি করার ক্রিম

আপনি কাম আয়ুবেদের আমন্ড বাদাম এবং নারকেল লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। এটিতে জৈব বাদাম রয়েছে যা ক্ষতিগ্রস্থ ত্বকের চিকিত্সা করে এবং ঠোঁটকে সুরক্ষিত এবং সুন্দরভাবে নরম রাখতে প্রাকৃতিক তেলগুলিকে লক-ইন করে।

স্ট্রবেরিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ঠোঁটকে উজ্জ্বল করে। স্ট্রবেরি লিপবাম ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট গোলাপি করে।

মেয়েদের ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার উপায়

যদিও গোলাপী ঠোঁট পাওয়ার বেশিরভাগ প্রতিকারই ঠোঁটকে পুষ্টি সরবরাহ করার উপর জোর দেয়, এটি একটি হ্যাক যা আপনার শুষ্ক এবং কালো ঠোঁট থাকলে আপনার জন্য কাজ করবে। এটি মনে হতে পারে যে এটি ঠোঁটের সাথে কিছু করার নেই, তবে এটি ঠোঁট মেরামত করতে অভ্যন্তরীণভাবে কাজ করে।

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে শুধু আপনার নাভিতে গরম ঘি লাগান। গর্ভধারণের পর শরীরের প্রথম যে অংশটি তৈরি হয় তা হল আমাদের পেটের নাভি। এটি আমাদের শরীরের একটি অলৌকিক অংশ যা শরীরের কোন অংশে পুষ্টির প্রয়োজন তা সনাক্ত করতে পারে এবং এটি প্রেরণ করতে পারে। পেটের নাভিতে ঘি লাগালে ঠোঁটকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়।

ঠোঁট কালো হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল আর্দ্রতা এবং হাইড্রেশনের অভাব। আয়ুর্বেদ ত্বক এবং ঠোঁটের শুষ্কতা সম্পর্কিত সমস্যাগুলির চিকিত্সার জন্য আমন্ড বাদাম সুপারিশ করে। আপনার ঠোঁটে আমন্ড বাদামের তেল ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
এক চামচ বাদাম তেল এবং এতে কিছু লেবুর রস নিন। আপনার ঠোঁটে মিশ্রণটি লাগান এবং তেলটি সঠিকভাবে শোষিত না হওয়া পর্যন্ত রেখে দিন।

আমন্ড বাদামের তেল ঠোঁটকে পুনরায় পূর্ণ করে এবং ঠোঁট ফাটতে বাধা দেয় যখন লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে যা ঠোঁটকে হালকা গোলাপি করে এবং প্রাকৃতিকভাবে কোমল করে তোলে।

ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার কারণ

আপনার ঠোঁটের ত্বক শরীরের বাকি অংশের ত্বকের তুলনায় পাতলা এবং বেশি সংবেদনশীল কারণ আপনার ঠোঁটে কোনো তেল গ্রন্থি নেই। ফলস্বরূপ, তারা শুষ্ক এবং চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আপনার ঠোঁট আপনার শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় উপাদানগুলির সংস্পর্শে আসে এবং সূর্যের সংস্পর্শে, শুষ্ক বা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়ার কারণ। ফাটা ঠোঁট, যা ডাক্তারি ভাষায় চেইলাইটিস নামে পরিচিত, অ্যালার্জেন বা চিকিৎসা অবস্থার সংস্পর্শে ঘটতে পারে।